অনাচ্ছাদিত উর্বশী

মোঃ শাহ্ জালাল বিল্লাহ্, সিনিয়র প্রভাষক,তজুমদ্দিন সরকারি ডিগ্রি কলেজ।

মোঃ শাহ্ জালাল বিল্লাহ্

তুমি মানুষের প্রথম ভূবন, পরম ওস্তাগর করলেন সৃজন

সুন্দর, স্বার্থক, পুণ্য ক্ষৌণি ধন্য হয় যেন,

তোমায় নিয়ে ঠাট্টা, উপহাস এতো উপালম্ব কেন?

তোমার জন্য নরাধিক সম্মান,

উৎসন্ন হলে এড়িয়ে জীবন বিধান,

তুমি নও কারোর উপাদেয় বস্তু,

নও তো কারোর ভোগ্যপণ্য ;

তোমাতেই তুমি বিনাশ, এটাই কি তোমার প্রয়াস?

যথাস্থানে থাকলে না অটুট,কেন হতে চাও এতো নগণ্য?

মাছ বাজারে আর খোলা খাবারে,

মাছিগুলো সে কি ভন্ ভন্ করে,

স্বাদ, পিপাসা মিটায় এরা উড়ে এসে বুকে জড়িয়ে ধরে,

ভেবেছো কি কখনো এই সাদৃশ্য নিয়ে,

দেখেছো কি কভু অন্তর দৃষ্টি দিয়ে,

তুমি তো নও কোনো সস্তা পণ্য,

নিজকে বিলাও কেন উজার করে?

হয়তো তুমি টগরা, অপ্সরা, উর্বশী, কর্মিষ্ঠা নারী,

সমানাধিকারের বাণী-মন্ত্রে করছো বাড়া-বাড়ি।

খোলা খাবারে নেই কারো ভক্তি,

নগ্নতায় স্থায়ী নয় প্রেম আসক্তি,

নাচিয়ে, মাতিয়ে একদিন হবে তুমি পুঁতিগন্ধময়;

ভক্ত,অনুরক্তের মিছে ভালোবাসায়,

স্বপ্নে বাঁধো ঘর ফিরো নিরাশায়,

অলীক প্রেমে ব্যর্থ জীবন যতই হোক ছন্দময়।

সুন্দরকে করো অসুন্দরে প্রকাশ,

অধোবদনে বলার থাকে কি অবকাশ,

প্রাণীকূল শুধায় লাজে ,” এতো নির্লজ্জ কেন তুমি?”

সৃষ্টির সেরা বলে এই অধিকার,

সুষ্টিকূল কেবল সৌজন্যে তোমার,

তোমারই পাপে কাঁপে সপ্ত নরক, কাঁপে আসমান, ভূমি।

নগ্নতায় সাময়িক হৃদয় হরণ,

আচ্ছাদিত সুন্দরেই মূল আকর্ষণ,

এলবাস বিহীন উন্মুক্ত সুন্দরের কেন এই উন্মত্ততা?

তোমা হতে মনুষ্যকূলের উত্থান,

তোমাকে ভক্তি আর অঢেল সম্মান,

নিক্ষিপ্ত হতে চাও আস্তাকুঁড়ে, এটাই কি যথার্থতা?

উন্মাদনার জোয়ারে উন্মুক্ত যৌবন,

লোলুপদের প্রিয় এমনই মৌ বন,

বসন্তের কোকিলরা বাঁধে না বাসা, কি যে লাজে মরি!

অসংবৃত দেহ প্রদর্শন মেলা,

উদভ্রান্ত যৌবনের কাগাবগা খেলা,

যৌবন সায়াহ্ন করবে বিলাপ,” আহ্! কি যে করি!”

জীবন নদীর কিনারে যখন ভিড়বে মরণ তরী।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন