ঝিনাইদহ বিটিসিএল ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি, চলছে সংযোগ সারেন্ডারের হিড়িক!

0
2

তারেক জাহিদ,ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহ বিটিসিএল দিনকে দিন মৃত ঘোড়ায় পরিণত হচ্ছে। নেই আগের সেই রমরমা ভাব। ডিপার্টমেন্টের সদিচ্ছার অভাবে মানুষ আর টেলিফোন ব্যবহার করছে না। সরকারী ইন্টারনেটের অবস্থাও মুমুর্ষ। এক সময় ঝিনাইদহ শহরে চার হাজারের বেশি টেলিফোন সংযোগ ছিল,কিন্তু এখন মাত্র ১০৯৪টি। উপজেলাগুলোতেও দিন দিন কমছে সংযোগ। বেসরকারী অপারেটগুলোর মানসম্মত সেবার কাছে মার খাচ্ছে বিটিসিএল।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহে সরকারী ইন্টপারনেট সেবার অবস্থা নাজুক। মানুষ সেবা পাচ্ছে না। দ্রুতগতির কথা বলা হলেও তা এক ধরণের প্রতারণা। সাশ্রয়ী প্যাকেজ ও লোভনীয় অফারের কারণে অনেকেই বিটিসিএলের সংযোগ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন। কালীগঞ্জ ও মহেশপুরের দুইজন গ্রাহক এ ধরণের দুইটি বানিজ্যিক লাইন নিয়ে পরে সংযোগ সারেন্ডার করেন। ব্যাপারীপাড়ার মেডিকেলের এক ছাত্র জানান, ইন্টারনেটে পরীক্ষা ও ক্লাসের জন্য তার পিতা বিটিসিএলের সংযোগ নিয়ে দেন। কিন্তু তা চলেনি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন জমা দিয়েছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারী ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যেখানে ঝিনাইদহ শহরে হাজারো সংযোগ,সেখানে ঝিনাইদহ বিটিসিএল মাত্র ১৭৮টি সংযোগ দিয়ে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের রোষানলে পড়ছে। ঝিনাইদহ বিটিসিএল’র এই দুরবস্থার কথা নিয়ে কর্মকর্তারা কেও মুখখোলেনি। তাদের ভাষ্য মুখ খুললে চাকরী থাকবে না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, ঢাকা অফিসে যারা ইন্টারনেট নিয়ে কাজ করেন, তাদের কারসাজি ও দুর্নীতির কারণে জেলা উপজেলা পর্যায়ের গ্রাহকরা কাংখিত সেবা পাচ্ছেন না। বিটিসিএল’র কাছ থেকে লাইসেন্স ও সংযোগ নিয়ে বেসরকারীরা দ্রুতগতির সেবা দিলেও সরকারী ভাবে সেই আশা দুরাশায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে লিমিটেড কোম্পানী হওয়ার কারণে সিবিএ করতে না দেওয়ায় গেজেটেড কর্মকর্তারা যা ইচ্ছা তাই করছেন বলে ওই কর্মকর্তা মনে করেন। তথ্য নিয়ে আরো জানা গেছে উপজেলা পর্যায়ে পোস্টিং দিয়ে তাদের ঝিনাইদহ বিটিসিএল অফিসে কাজ করানো হচ্ছে। শৈলকুপায় কাগজে কলমে জনবল থাকলেও সেখানে কেও নেই। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহায় দিয়ে এ ভাবে প্রতিটি উপজেলা অফিস থেকে লোকবল সরিয়ে ঝিনাইদহে কাজ করানো হচ্ছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে টেলিফোন গ্রাহকরা সেবা পাচ্ছে না। এদিকে ঝিনাইদহের বিভিন্ন অফিসে কর্মরত কন্টিজেন্ট কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। ফলে তারা দায়দেনায় জড়িয়ে পড়ছে। তথ্যমতে ঝিনাইদহ বিটিসিএল অফিসে ১৬জন এরকম কর্মচারী আছেন। তারা ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পান। দুই মাস অতিবাহিত হলেও তারা টাকা পাচ্ছেন না। টাকার জন্য অনেক কর্মচারী অফিসে এসে কান্নাকাটিও করেন বলে সরেজমিন দেখা গেছে।

সরকারী টেলিফোন ও ইন্টারনেটের এই দুরাবস্থার চিত্র নিয়ে ঝিনাইদহ বিটিসিএল’র সহকারী ম্যানেজার কৃষ্ণপদ ভদ্র জানান, ইন্টারনেটের বিষয়গুলো ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রন করা হয়। তাই এই ব্যার্থতা ঢাকার। তারাই সার্ভায়ার নিয়ন্ত্রন করে। ফলে আমাদের কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, ফান্ডে টাকা থাকলে কন্টিজেন্ট কর্মচারীরা অবশ্যই বেতন পেতেন। কিন্তু দুই মাস কোন বরাদ্দ আসে না। বরাদ্দ আসলে তারা অবশ্যই বেতন পাবেন বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন